ছবি - সংগৃহীত
ফিচার

বাংলার বৈশাখ… বাঙালির বৈশাখ…

কালের অনন্ত প্রবাহে শেষ হল আরো একটি বছর। আজ নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় রাঙানো নতুন বাংলা বছর-১৪২৩ এর প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ।


‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। এসো, হে বৈশাখ এসো, এসো।’ সব না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতেই আবার এসেছে পয়লা বৈশাখ।

বৈশাখের নবপ্রভাতেই বাঙালির তাই কায়মনো প্রার্থনা- যা কিছু গ্লানিময়, যা কিছু জীর্ণ বিশীর্ণ দীর্ণ, যা কিছু পুরনো- তা বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে হোক ছাই। গ্রীষ্মের এই তাপসনিঃশ্বাস বায়ে পুরনো বছরের সব নিষ্ফল সঞ্চয় উড়ে যাক, দূরে যাক, যাক দূর-দিগন্তে মিলিয়ে।

বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত হবে বাংলার চারদিক। এই আয়োজনে গ্রীষ্মের অগ্নিজিহ্বাও হয়তো বাতাসে লকলক করে নেচে উঠবে। অগ্নিবরণ নাগনাগিনীপুঞ্জও তাদের সঞ্চিত বিষ উগড়ে দিবে বাংলার ভূপ্রকৃতিতে। তারপরও বাঙালি এই খরতাপ উপেক্ষা করে মিলিত হবে তার সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবে।

বাংলা নববর্ষে মহামিলনের এ আনন্দ উৎসব থেকেই বাঙালি ধর্মান্ধ অপশক্তির কূট-ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করবার আর কুসংস্কার ও কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে লড়াই করবার অনুপ্রেরণা নেবে, হবে ঐক্যবদ্ধ। নতুন বছর মানেই এক নতুন সম্ভাবনা, নতুন আশায় পথ চলা। বুকভরা তেমনি প্রত্যাশা নিয়ে নতুন উদ্যমে ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি শপথ নেবে সব কল্যাণের ।

বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্রাট আকবরের প্রিয়পাত্র আবুল ফজলের আইন-ই- আকবরী পাক-ভারত উপমহাদেশের একটি প্রামাণিক ইতিহাস। এই গ্রন্থে বিক্রমজিত নামে একজন প্রাচীন ভারতীয় নরপতির নাম পাওয়া যায়। তাঁর সিংহাসনারোহণের দিন হতে তিনি একটি নতুন অব্দ প্রচলন করেছিলেন। সম্রাট আকবরের রাজত্বের ৪০তম বছরে ওই সালটির ১৫১৭ অব্দ চলছিলো। সম্ভবত এই প্রাচীন সালটিই আমাদের বর্তমান বাংলা সনের উৎস।

বাংলা সনের উৎপত্তি সর্ম্পকিত ইতিহাসে জানা যায়, আকবরের রাজত্বের ২৯ বছর কালে, কতিপয় বিখ্যাত ভারতীয় জ্যোতির্বিদের সহায়তায় সম্রাট আকবর উপরোক্ত সালটিকেই সংস্কারপূর্বক গ্রহণ করেছিলেন এবং সর্বভারতে তা প্রচলিত হয়েছিল ।

তবে বঙ্গাব্দের সঙ্গে আকবর প্রবর্তিত ‘তরিখ- ই-ইলাহি’ সম্পৃক্ততা এই বিষয়ে গবেষকরা সবাই মেনে নিয়েছেন এমন নয় । বেশ কিছু ইতিহাসবিদ, গবেষক বঙ্গাব্দের উৎস নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। অনেক পণ্ডিত মনে করেন, রাজা শশাঙ্কই হলেন বঙ্গাব্দের মূল প্রবর্তক। এদের মতে, শশাঙ্কের রাজ্যাভিষেকের দিন থেকে এই অব্দ চালু হয়েছিল।

এই বক্তব্যের প্রবক্তা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর একটি লেখায় বলেছেন, ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ, সোমবার বঙ্গাব্দের গননা শুরু হয়। এই দিনেই শশাঙ্ক গৌড়বঙ্গে স্বাধীনভাবে রাজত্ব শুরু করেন।

– বিপ্রতীক২৪ ডেস্ক

Print Friendly
test