Interview cartoon_biproteek24
কার্টুন - বিপ্রতীক২৪.কম।
রঙ্গপটু

প্রার্থি’র খপ্পরে চাকুরীদাতা ।। – রম্যকার হিমেল

Print Friendly

বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থা তাহাতে জনগণ যে ভুলিয়া গিয়াছে উহারা ভাল আছে নাকি মন্দ। সকলকে জিজ্ঞাসা করিলে কেউ মনে হয় বলিবে না, আমি ভাল আছি। সবচাইতে অন্যরকম অবস্থানে রহিয়াছে বোধহয় বেকাররা। রাজ্যের সকল বেকাররা যেন একইরকম সমস্যাবাণে জর্জরিত। এ গল্পের নায়কের নাম “স্বাগত”। আর দশটা বেকারের মত সেও গিয়াছিল চাকুরীর সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে। তাহার চাকুরীটা হইয়াছিল কিনা সে বিষয়ে ক্রমে জানা যাইবে। কিন্তু তাহার সাক্ষাৎকারে উঠিয়া আসিয়াছে বর্তমান সমাজ বাস্তবতার কিছু চৌম্বক অংশ। পাঠক, চলুন পড়া যাক সে কাহিনী।


স্বাগতঃ স্লামালেকুম স্যার। আসিতে পারি কি?
চাকুরীদাতাঃ আসুন। বসুন। (স্বাগত এমনভাবে বসিল যেন চেয়ারটিতে সে বহুযুগ অভ্যস্ত। ব্যাপারটি চাকুরীদাতার নজর এড়াইল না।)
চাকুরীদাতাঃ নিজের সম্পর্কে বলুন।
স্বাগতঃ চাকুরীর জন্য যে কত জোড়া জুতার তলা ক্ষয় করিয়াছি জনাব, গুনিতে গুনিতে ক্লান্ত হইয়া গনণা করা ছাড়িয়া দিয়াছি। তবে যেহেতু এখনও ঘুরিয়া বেড়াইতেছি তাই বলা যায়, আমি এক যাযাবর।
চাকুরীদাতাঃ ভাল খবর। তবে আপনার জীবন চলছে কি করে?
স্বাগতঃ খুব দোদূল্যমান অবস্থায়। দোল দোল দুলুনি।
চাকুরীদাতাঃ পরিবারে কে কে আছে?
স্বাগতঃ পিতা-মাতা, আমি আর ছোট বোন। পিতার নাম দিলদরিয়া চৌধুরী, মাতার নাম হুরমুরিয়া বেগম, আমার নাম স্বাগত আর বোনের নাম ভাগত।
চাকুরীদাতাঃ “ভাগত”, এইটা আবার কেমন নাম ?
স্বাগতঃ জনাব, বর্তমান সমাজে পুত্রসন্তান হইলে সকলে ভাবে “অর্থআয়গ্রস্থ”, তাই আমার নাম রাখা হয় “স্বাগত”। আর কন্যা জন্ম হইলে সকলে ভাবে “কন্যাদায়গ্রস্থ”, তাই বোনের জন্মের সাথে সাথে নাম রাখিল “ভাগত”।
চাকুরীদাতাঃ ও…! I see. এবারে কিছু Personal প্রসঙ্গে আসি। আপনার মতে সকলের প্রিয় খাদ্য কি হইতে পারে?
স্বাগতঃ অবশ্যই ঘুষ।
চাকুরীদাতাঃ আপনার কি মনে হয়? বর্তমান ক্ষয়িষ্ণু বনায়ন’কে সমৃদ্ধ করতে কি কি বৃক্ষ কাজে আসিতে পারে?
স্বাগতঃ বাঁশ।  আমরা সকলে একে অন্যকে এমন বাঁশাবাঁশি করিতেছি যে বাঁশের বিকল্প কিছু হইতেই পারে না।
চাকুরীদাতাঃ রাজনীতির সংজ্ঞা দিন।
স্বাগতঃ বাণী আর বিবৃতিতে,
পয়সা তো আর হয়না দিতে,
বিশ্বাসীরে মিথ্যা কথায়
স্বার্থশেষে চড়ে গাছের মাথায়……
চাকুরীদাতাঃ থামুন! থামুন! রাজনীতি বাদ। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিন।
স্বাগতঃ খুব ভাল প্রশ্ন জনাব। গণতন্ত্র হইলো সেই জিনিস, যার Market এ খুব Demand.
চাকুরীদাতাঃ Philosophy ছাড়ুন । Defination অর্থাৎ সংজ্ঞা দিন।
স্বাগতঃ ঠিক আছে, চেষ্টা করিয়া দেখি। আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলিলেন, Government of the people, by the people, for the people. কিন্তু বর্তমানে সে সংজ্ঞা কিছু পরিবর্তিত হইয়াছে। এইখানে of হইবে off, By হইবে buy, for হইবে far. তার মানে Government off the people, buy the people, far the people…….
(এইবারে চাকুরীদাতা বেশ ভাবনায় পড়িলেন। কিয়তক্ষণ ভাবিয়া তিনি স্বাগত কে বলিলেন -)
চাকুরীদাতাঃ স্বাগত সাহেব। আপনার চাকুরীটা মনে হয় হইবে না।
স্বাগত কে বলিয়াছে?
চাকুরীদাতাঃ আমি বলিতেছি, আপনার চাকুরী হইবে না।
স্বাগতঃ আপনি কে?
চাকুরীদাতাঃ আমি এ অফিসের বড়কর্তা।
স্বাগতঃ আজ্ঞে জনাব, আমিতো আপনার উপরের বড়কর্তার সহিত Line করিয়া আসিয়াছি। ওইখানে অবশ্য আমি পরিমাণ মতো মালপানিও দিয়া আসিয়াছি। আমার বরং দুঃখ হইতেছে আপনার জন্য। আপনি কিছুই পাইলেন না।
চাকুরীদাতাঃ আরে মশাই, আপনি মালপানি খরচের রাস্তা করিলে তো আমার চেয়ার লইয়া টানাটানি লাগিবে।
স্বাগতঃ না না জনাব। তাহা হইবে না। এখন হইতে আপনি আমায় মালিশ করিবেন যেন আপনার চেয়ার ঠিক থাকে। নইলে দেখিবেন, আপনার জায়গায় আমি, আর আমার জায়গায় আপনি । কি বুঝিলেন??
এইবার চাকুরীদাতা কিছুক্ষণ হতভম্ব হইয়া চুপ করিয়া রহিলেন। ভাবিতে লাগিলেন, যুগ জামানা বহুত বদলাইয়াছে। চারপাশে দিনবদলের হাওয়া লাগিয়াছে। বদলের দিনগুলো সুদিন নাকি কুদিন তাহা পাঠক বিচার্য।

  • রঙ্গপটু, বিপ্রতীক২৪.কম।
Powered by WP Review Powered by WP Review

মন্তব্য করুন

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + four =

test