ছবি : সংগৃহীত
top bar news আলোচিত সংবাদ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবাদ শিরোনাম

পাকশীর দেরশত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোরার মাঠ আজ বিলুপ্ত

Print Friendly, PDF & Email

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধেরও বহুপূর্বের ঐতিহ্যবাহী গোরার মাঠের খবর আজ আর কেউ রাখেনা কালের বিবর্তনে ঐতিহাসিক এ মাঠটি আজ চোখের আড়ালে চলে গেছে।


একসময় শীত মৌসুমে হাজার হাজার বিৃটিশ গোরা সৈন্যের তাঁবু পড়তো এ মাঠে। শত শত দোকান বসে যেত এ মাঠ ঘিরে। সারাদিন ধরে চলতো পিটি প্যারেড আর রাইফেল স্যুটিং। জানেন কি? কোথায় ছিল এ মাঠটি? এটি ছিল পাকশী কোলনীর ঠিক উত্তরে, চন্দ্র প্রভা বিদ্যা পিঠ স্কুলের সামনে (বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেড এর আওতাভূক্ত)। বৃটিশ শাসনামলে সৈন্যদের রাইফেল স্যুটিং এর জন্য তারা পাকশীতে নির্মাণ করে একটি চাঁদমারি আর মেশিন গান স্যুটিং এর জন্য সাঁড়তে তৈরি করে আর একটি চাঁদমারি। সম্পূর্ন মাটি দিয়ে তৈরি এ চাঁদমারি এখনো বর্তমান। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী পাকশীর চাঁদমারিটি পরবর্তিকালে ঈশ্বরদী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সময় ভেঙে ফেলা হয়।এখন প্রশ্ন আসে এ মাঠের কেন এই নামকরন? এখানে ট্রেনিং নিতে আসা অধিকাংশ সৈন্য ছিল ফর্শা অর্থাৎ গৌর বর্ণের। আর গৌর বর্ণের জন্যই তাদেরকে বলা হতো গোরা সৈন্য। এ মাঠ টিতে গোরা সৈন্যরা ট্রেনিং নিত বলেই মাঠটির নামকরন হয় গোরার মাঠ।


১৯৬৪ সালে পাকিস্তান আমলে আনবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহনের সাথে সাথে গোরার মাঠে তৈরি করা হয় বিমান বন্দর। সেই সময় এ বিমান বন্দর থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স এর একটি বিমান উড্ডায়নের সময় বিদ্ধস্ত হলে বিমান বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে এ মাঠে প্রতিষ্ঠিত হয় তেল অনুসন্ধানকারী জি.এস.আই এর ক্যাম্প। তারও পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রেনিং সেন্টার।


সেই সবই আজ ইতিহাস, কালের বিবর্তনে ঐতিহাসিক এ মাঠটি আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে এ মাঠটি ঈশ্বরদী ইপিজেড এর অর্ন্তভুক্ত।

  • অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ডেস্ক, বিপ্রতীক২৪.কম ।
test