ছবি : সংগৃহীত
top bar news আলোচিত সংবাদ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবাদ শিরোনাম

আজও টিকে আছে হার্ডিঞ্জ সেতুর নির্মাণ শ্রমিকদের উত্তরসূরীরা

ইতিহাসে আছে, পৃথিবীর সাত আশ্চর্যের একটি তাজমহল যা নির্মাণ করতে প্রায় ২২ হাজার দক্ষ শ্রমিক, পেইন্টার ও চিত্রশিল্পীদের আনা হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ঠিক তেমনই প্রায় ২৪,৪০০ শ্রমিক কাজ করে ছিল হার্ডিঞ্জ সেতু নির্মাণ করতেও আর এই শ্রমিকেদর সিংহ ভাগই আনা হয়েছিল ভারতের উরিষ্যা থেকে।


সে সময় উরিষ্যার শ্রমিকরা খুব দক্ষ এবং নিষ্ঠাবান ছিল বলে বৃটিশ সরকার যেকোন নির্মাণ কাজে উরিষ্যার শ্রমিকদের বেশী প্রাধান্য দিত। ১৯১০ সালে যখন হার্ডিঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখন তাদেরকে এই কাজের জন্য আনা হয়েছিল উরিষ্যা থেকে। ১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেলে বৃটিশ সরকার সে সময় এ শ্রমিকদের মধ্য থেকে ১৩ টি পরিবারকে রেখে দিয়েছিল সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। কিন্তু বৃটিশ শাসনামল শেষ হয়ে গেলে পাকিস্তানি শাসনামল শুরু হলে কালক্রমে এ শ্রমিকরা তাদের চাকুরী হারায় এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানোরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে জীবনের তাগীদে তারা অন্য পেশা গ্রহন করতে বাধ্য হয়। তারা তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায় একাংশ চলে যায় সাঁড়া ঘাটে এবং আরেকাংশ চলে যায় ঈশ্বরদী স্টেশনে সেখানে তারা কুলি মজুরের পেশায় নিয়োজিত হয়। আর অপর অংশটি থেকে যায় পাকশীতে, জীবন বাঁচাতে তাদের বেছে নিতে হয়ে মাছ ধরা পেশাকে। বৃটিশ সরকারের সময় তাদের বসবাসের জন্য দেয়া হয়েছিল ৯ একর জমি আর সেই জমিতেই তাদের উত্তরসূরীরা আজও বসবাস করছে।


কোথায় তাদের সে পাড়াটি? পাহাড় সমান উচুঁ পাকশী রেল স্টেশন থেকে কলোনীর দিক যাবার পথে হাতের ডান দিকে যে ছোট্ট পাড়াটি মূলত সেটি তাদের পাড়া। বর্তমানে এ পাড়াটির নাম ‘গুড়ি পাড়া’। এ পাড়াটির নামকরণেও রয়েছে মজার ইতিহাস। বৃটিশ শাসনামলে ভারতের উরিষ্যার অধিবাসীদের বলা হতো উরিয়া বা উরে। যেহেতু এ উরে শ্রমিকদের জন্য তৈরী করা হয়েছিল এ পাড়াটি তাই তার নাম হয়েছিল উড়িয়া পাড়া। কিন্তু কালক্রমে উচ্চারণ বিকৃতির ফলে উড়িয়া পাড়া নাম থেকে এ পাড়াটির নাম হয়ে যায় গুড়িয়া পাড়া তারও পরে হয়ে যায় গুড়ি পাড়া।


হার্ডিঞ্জ সেতুর মতো তার নির্মাণ শ্রমিকরাও তাদের উত্তরসূরীদের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে পাকশীর গুড়ি পাড়াতে।

  • অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ডেস্ক, বিপ্রতীক২৪.কম ।
[wp-review]
test