ছবি : সংগৃহীত
top bar news আলোচিত সংবাদ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবাদ শিরোনাম

অতীত ঐতিহ্যের ভগ্নাবশেষ পাকশীর সাহেব পাড়া।

Print Friendly, PDF & Email

বৃটিশ শাষনামলে সবথেকে ঘৃণ্যতম অধ্যায় ছিল তাদের সৃষ্টি করা শ্রেনী বৈষম্যের দিকটি। সেই শ্রেনী বৈষম্যের প্রামণ গুলো আজও পাওয়া যায় বৃটিশ সরকারের তৈরী পাকশী রেল নগরীর বাসস্থান গুলোতে। হার্ডিঞ্জ সেতু নির্মাণ শুরু হলে কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বসবাসের জন্য তৈরী করা হয় পাকশীর বিভিন্ন কলোনী। শ্রেনী বৈষম্যের নিদর্শন হিসেবে যা আজও টিকে আছে পাকশীতে। আমরা একে একে তুলে ধরবো সেই কলোনীর নির্মাণ এবং নামকরনের ইতিহাস।


শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাজানো নগরী পাকশীর সবচাইতে অভিজাত পাড়াটির নাম ছিল সাহেব পাড়া। তৎকালীন ইংরেজ সাহেবরা পাড়াটিতে বসবাস করতেন বলে এই পাড়াটির নামকরন করা হয় সাহেব পাড়া। এ পাড়ার প্রতিটি বাংলো বাড়ির স্থাপত্য শৈলি গড়ে উঠেছিলো লন্ডনের অভিজাত খামার বাড়ির আদলে। প্রতিটি বাংলো লাগোয়া বাবুর্চিখানা, ট্রলিম্যান ও বয়-বেয়ারাদের ছোট ছোট খুপড়ি কোয়ার্টার ও প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ফুল ও ফলের বাগান দখেলেই বোঝা যেত কি ধরনের অভিজাত শ্রেনীর মানুষজন বসবাস করতে এই বাংলোগুলোতে। বিশাল এ বাংলোবাড়িতে তৎকালীন অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধার সব ব্যবস্থাই ছিল। এমনকি বিনোদনের জন্য এ পাড়ায় ছিল একটি অভিজাত ক্লাব এবং তার সাথে লাগোয়া সুইমিং পুল। ক্লাবটিতে সেই সময় থেকে লন টেনিস, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা সহ বল ড্যান্সের ফ্লোর পর্যন্ত ছিল।


পাকশীর তৎকালীন নেটিভ কলোনী বাবুপাড়ার বেড রুম আর সাহেব পাড়ার বাথরুম গুলো ছিল একই মাপের এ থেকে আন্দাজ করা যায় দু’পাড়ার মধ্যের বৈষম্য।


শতবছরের ঐতিহ্যবাহী সাহেব পাড়া আজও বিদ্যমান। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে পাকশীর উপর বিদ্বেষ বশত: কিছু রেল কর্মকর্তা বর্তমানে এখানকার কিছু কিছু ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ও অফিস রাজশাহীতে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক নিদর্শনই সরিয়ে নেয়া হয়েছে যার প্রমান মেলে সাম্প্রতিক কালে ক্লাবের বিলিয়ার্ড টেবিলটি সরিয়ে নেয়া থেকে। এ অপচেষ্টা রোধকল্পে সকলেরই সচেতন হওয়া উচিৎ এবং সরকারের প্রতি আহব্বান, বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান হিসেবে ঐতিহ্যবাহি পাকশী নগরীকে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনর আওতায় এনে তা সংরক্ষন করা।

  • অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ডেস্ক, বিপ্রতীক২৪.কম ।
test